শীতকালে শিশুর ত্বকের যত্ন: আপনার দুশ্চিন্তা দূর করার ১০টি কার্যকরী উপায়
শীতকালে শিশুর ত্বকের যত্ন
শীতকালে শিশুর যত্নের বিস্তারিত গাইডলাইন
১. পোশাক ও উষ্ণতা (Clothing and Warmth)
লেয়ারিং পদ্ধতি (Layering): শিশুকে সরাসরি ভারি গরম কাপড় না পরিয়ে লেয়ারিং (একের পর এক স্তরে) পদ্ধতিতে পোশাক পরান। প্রথমে একটি নরম সুতির জামা পরান, যা তার ত্বককে ঘষা থেকে বাঁচাবে। এরপর হালকা সোয়েটার বা উষ্ণ কাপড় এবং সবশেষে জ্যাকেট বা সোয়েটার পরান। প্রয়োজনমতো একটি লেয়ার খুলে বা পরিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
হাত-পা ও মাথা ঢেকে রাখা: শিশুর শরীর থেকে বেশিরভাগ তাপ মাথা, হাত ও পা দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই টুপি/মাফলার, মোজা এবং গ্লাভস পরাবেন।
নরম কাপড়: খেয়াল রাখবেন, গরম কাপড়গুলো যেন মোলায়েম হয় এবং শিশুর ত্বকে কোনো ধরনের অ্যালার্জি বা অস্বস্তি তৈরি না করে।
২. ত্বকের যত্ন (Skin Care)
শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকায় শিশুর ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায় এবং খসখসে হয়ে যায়।
তেল মালিশ (Oil Massage): প্রতিদিন কুসুম গরম তেল (বেবি অয়েল বা সরিষার তেল) দিয়ে শিশুকে মালিশ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বক নরম থাকে। গোসলের আগে তেল মালিশ করা খুব উপকারী।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: গোসলের ঠিক পরেই যখন ত্বক সামান্য ভেজা থাকে, তখন ভালো মানের বেবি লোশন বা কোল্ড ক্রিম সারা শরীরে এবং মুখে লাগিয়ে দিন। এতে আর্দ্রতা ত্বকের ভেতরে লক হয়ে যায়।
লিপ বাম: শিশুর ঠোঁট ফাটা রোধ করতে নিয়মিত লিপ বাম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।
ডায়াপার কেয়ার: ডায়াপার ভিজে গেলে বা স্যাঁতস্যাঁতে হলে দ্রুত পরিবর্তন করুন। ভেজা ভাব থেকে র্যাশ এবং ঠান্ডা লাগার প্রবণতা বাড়ে।
৩. গোসল ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা (Bathing and Hygiene)
কুসুম গরম জল: শিশুকে নিয়মিত গোসল করান, তবে অবশ্যই কুসুম গরম জল ব্যবহার করুন। গোসলের সময় খুব বেশি দেরি করবেন না।
সঠিক সাবান: সাবান বা শ্যাম্পু কেনার সময় নিশ্চিত করুন যে তা অ্যালকোহল ও প্যারাবেন মুক্ত এবং শিশুর ত্বকের জন্য উপযোগী। সাবানের পরিবর্তে ময়েশ্চারাইজিং বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
দিনে একবার গোসল: খুব বেশি ঠান্ডা পড়লে প্রতিদিন গোসল না করিয়ে একদিন পর পর গোসল করাতে পারেন, তবে নিয়মিত পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া জরুরি।
৪. স্বাস্থ্য ও খাবার (Health and Diet)
তরল খাবার: শীতে শিশুরা পানি কম পান করতে চায়। তাই পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করুন। বয়স অনুযায়ী, ফোটানো গরম জল, স্যুপ, গরম দুধ বা ফলের রস (যেমন কমলা, মাল্টা যা ভিটামিন C সমৃদ্ধ) খাওয়ান।
উষ্ণ ও পুষ্টিকর খাবার: শিশুর খাদ্যতালিকায় উষ্ণ খাবার যেমন স্যুপ, খিচুড়ি, ওটমিল ইত্যাদি রাখুন, যা শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখতে সাহায্য করবে।
ভিটামিন সি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলালেবু, আমলকি ইত্যাদি নিয়মিত দিন।
স্তন্যপান (Breastfeeding): ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধই শিশুর জন্য রোগ প্রতিরোধের সেরা উৎস। এই সময়ে বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যান।
৫. পরিবেশ ও অন্যান্য সতর্কতা (Environment and Other Precautions)
ঘরের তাপমাত্রা: শিশু যে ঘরে থাকে, সেই ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ও আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করুন। খুব বেশি ঠান্ডা লাগলে হিটার ব্যবহার করতে পারেন, তবে খেয়াল রাখবেন ঘর যেন অতিরিক্ত শুষ্ক না হয়।
হিউমিডিফায়ার (Humidifier): ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক হয়ে গেলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন, যা ত্বকের শুষ্কতা এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
সূর্যস্নান (Sun Bath): শীতের মিষ্টি রোদ উঠলে অল্প সময়ের জন্য (১৫-২০ মিনিট) শিশুকে সূর্যস্নান করান। এটি ভিটামিন ডি এবং উষ্ণতা পেতে সাহায্য করবে।
সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা: এই সময়ে সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে শিশুকে দূরে রাখুন। বাইরে গেলে বা ভিড়ের জায়গায় গেলে মাস্ক পরানোর অভ্যাস করাতে হবে (যদি শিশুর বয়স উপযোগী হয়)।
শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
প্রিয় বন্ধুরা শীতের সময় সবাই চায় ঘরোয়া উপায় তকের যত্ন নিতে তাই আপনাদের আজকে জানানো হবে,শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়। সব সময় আমরা ত্বকের যত্নে থাকি। কিন্তু শীতের সময় ত্বকের যত্ন যেন দ্বিগুণ নিতে হয়। শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায় নিচে জানানো হলো:- ঠান্ডা পানিতে গোসল করা থেকে বেঁচে থাকবেন। কারণ ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে ত্বক আরো শুষ্ক হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হতে পারে। এইজন্য শীতের সময় হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করার চেষ্টা করবেন।
- শীতে প্রতিদিন সকাল বিকেল ময়েশ্চার ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। কারণ, ময়েশ্চার আপনার ত্বক নরম ও ভালো রাখতে এই শীতের দিনে সাহায্য করে থাকে।
- শীতের সময় আপনাকে আপনার তাকে সানস্ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। শুধু গরমকালের জন্য সানস্ক্রিম এমনটা না। শীতের সূর্য ে আলট্রা ভায়োলেট বলে একটা উপাদান থাকে যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। আপনি সানস্ক্রিন ব্যবহারের মাধ্যমে এই ক্ষতি থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
- শীতের সময় যুক্ত সাবান ব্যবহার করতে হবে। কারণ শীতের শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য ত্বক শুষ্ক হয়ে থাকে এমন সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এমন সময় যদি আপনি গ্লিসারিন যুক্ত সাবান ব্যবহার করে থাকেন। তাহলে দেখবেন আপনার ত্বকের আদ্রতা ঠিকঠাক রয়েছে।এইভাবে শীতের সময় আপনি আপনার ত্বকের যত্ন নিতে পারেন।
শীতে ত্বকের শুষ্কতা দূর করার উপায়
- নারিকেল তেল: নারিকেল তেল ব্যবহারে আমাদের ত্বক নরম ও কমল হয়ে থাকে। কিন্তু ,দিনে নারিকেল তেল ব্যবহার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না। তাই আপনাকে রাতে ঘুমানোর আগে এক চামচ নারিকেল তেল ভালোভাবে ত্বকে মালিশ করে নিতে হবে। এরপর পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করার পর ধুয়ে ফেলতে পারেন অথবা রেখে দিতে পারেন।
- কলা: যা আমাদের শরীরের খুব উপকারে একটি ফল। কলা হচ্ছে এক ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান। এবং এটি ত্বকের ময়েশচার এর কাজ করে থাকে। কলার মধ্যে বিদ্যামান থাকা ভিটামিন সি, এ, পটাশিয়াম ,ক্যালসিয়াম ,কার্বোহাইড্রেট যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে ভীষণভাবে উপকার করে থাকে।
- দুধ: দুধ জন্য ভীষণ উপকারী এটা আমরা সবাই জানি। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা গরম দুধ খাওয়া শরীরের জন্য অনেক উপকার। এছাড়াও শীতের রাতে আপনি যদি দুই চামচ দুধের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে তাকে মেসেজ করেন ।এবং হালকা গরম পানি দিয়ে ফেলেন দেখবেন কয়েক দিনের মধ্যেই আপনার ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়ে যাচ্ছে।
- মধু: শীতের সকালে মধু খাওয়া অনেক উপকারী। এছাড়াও আপনি কি জানেন শীতের সময় আপনার তাকে এক থেকে দুই চামচ মধু ব্যবহার করলে আপনার ত্বকে সুস্থতা দূর হয়ে যায়। ত্বক পরিষ্কার করে নিয়ে মধু তোকে মেসেজ করতে হবে। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ত্বকটা ধুয়ে নিতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখবেন আপনার ত্বকের শুষ্কতা দূর হতে শুরু করে দিয়েছে।

